কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ এ ০৯:০৬ AM

উপকূলীয় বনায়ন

কন্টেন্ট: পাতা

বাংলাদেশ বিশ্বে সর্বপ্রথম সফল উপকূলীয় বনায়নকারী দেশ। উপকূলী জনগণের আরও অধিক সুরক্ষা প্রদানের জন্য বন অধিদপ্তর উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে ওঠা নতুন চরে ষাটের দশক থেকে ম্যানগ্রোভ বনান শুরু করে। বন অধিদপ্তর কর্তৃক উপকূলীয় বনায়নের সফলতা প্রত্যক্ষ করে সরকার ১৯৭৬ সালে উপকূলীয় নদীর মোহনা বা সমুদ্র হতে নতুন জেগে উঠা ১২ লক্ষ ৩০ হাজার একর (প্রায় ৫ লক্ষ হেক্টর) চর জমির স্থিতিশীলতা আনয়নের জন্য বনায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (তৎকালীন বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়) এর নিকট ১০ বছরের জন্য হস্তান্তর করে।

1977 সালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় (তৎকালীন বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়) উক্ত ১২ লক্ষ ৩০ হাজার একর (প্রায় ৫ লক্ষ হেক্টর) চরভূমি সংরক্ষিত বন ঘোষণার উদ্দেশ্যে বন আইন, ১৯২৭ এর ৪ ধারায় গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে

১৯৯০ সালে উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন জেগে ওঠা বনায়নের উপযোগী চরভূমি ২০ বছর মেয়াদের জন্য সর্ব প্রথম বন অধিদপ্তরের নিকট হস্তান্তরের জন্য সরকার কর্তৃক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৮-০১-২০১০ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপকূলে জেগে ওঠা নতুন চরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বনায়নের লক্ষ্যে বন অধিদপ্তরকে সহযোগীতা প্রদানের জন্য স্থানীয় জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করতে হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বাংলাদেশ বন বিভাগ উপকূলীয় চরাঞ্চলে সফল বনায়ন পদ্ধতির উদ্ভাবক। বন বিভাগ ষাটের দশক থেকে উপকূলীয় জেগে ওঠা চরে বনায়ন শুরু করেছে। এ বন কে প্যারা বন ও বলা হয়। উপকূলীয় চর বনায়ন প্রক্রিয়া বনজ সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি উপকূলবাসীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা এবং সাগর থেকে ভূমি জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে । বনায়নের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর থেকে ১ হাজার ৬০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ভূমি দেশের মূল ভূ-খন্ডের সাথে যুক্ত হয়েছে। উপকূলীয় চরাঞ্চলে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ হেক্টর উপকূলীয় নতুন জেগে ওঠা চরে বন সৃজন করা হয়েছে। উপকূলীয় চর বনায়নের প্রভাবে স্থায়ীত্ব অর্জন করায় উপকূলের ১,১২,০৬৩ একর জমি শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। উপকূলীয় জনগণের জীবন ও সম্পদ প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা এবং দেশের মজুদ কার্বন সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপকূলবর্তী জেগে ওঠা চরে সৃজিত বনের ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৩৮৮.৮৫ একর সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ।

অবস্থানঃ নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা।

পরিমাণঃ এ বনের আয়তন ২ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের ১.৩৬%।

উদ্ভিদ প্রজাতিঃ কেওড়া, ছৈলা, বাইন, গোলপাতা ইত্যাদি।প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনের মতো এ বন জোয়ার-ভাটায় প্লাবিত হয়।

বন্যপ্রাণীঃ হরিণ, মেছোবাঘ, শিয়াল, বানর, বনবিড়াল, বালিহাঁস ইত্যাদি।

মৎস্য সম্পদঃ এ বন উপকূলীয় মৎস্য ভান্ডারেরও একটি বিরাট উৎস। ভিটকি, পারসে, গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি ইত্যাদি মাছ ও কাঁকড়া পাওয়া যায়।

বর্তমানে উপকূলীয় বনের অবস্থান ও পরিমাণ

অবস্থানঃ নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় এলাকা।

পরিমাণঃ এ বনের আয়তন লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৮.০৫ একর যা দেশের আয়তনের ১.৮৫% এবং বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ১৭.০৮%তন্মধ্যে সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৩৮৮.৮৫ একর।

উপকূলীয় বনায়নের উদ্দেশ্য

  • নদীর মোহনা/সাগর থেকে চর জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করাসহ চরভূমির স্থায়িত্ব প্রদান।

  • সবুজ বেস্টনী সৃজনের মাধ্যমে উপকূলবাসীকে প্রাকৃতিক দূর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা

  • উপকূলীয় চরে বনায়ন প্রক্রিয়ায় বনজ সম্পদ সৃষ্টির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধি।

  • উপকূলীয় এলাকায় প্রকৃতি ভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা।

উপকূলীয় বনায়নের সাফল্য

  • উপকূলে নতুন জেগে ওঠা চরে এ যাবৎ ২ হাজার 7 শত 37 বর্গ কি.মি. বনায়ন করা হয়েছে, যা সবুজ বেস্টনী হিসেবে উপকূলবাসীকে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙ্গন-এর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে রক্ষা করছে

  • উপকূলীয় চর বনায়নের প্রভাবে চরভূমি স্থায়িত্ব অর্জন করায় উপকূলের ১ লক্ষ ১২ হাজার ৬৩ একর জমি শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে ফের প্রদান করা হয়েছে।

  • উপকূলীয় বনায়নের প্রভাবে চরভূমিতে বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধি ঘটায় ৩ টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ২টি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়েছে।

  • উপকূলীয় বনায়নের ফলে কার্বন মজুদের মোট পরিমাণ ২৬.৩৬ মিলিয়ন টন।

  • উপকূলীয় বনায়নের ফলে মৎস্য প্রজননের সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন